ই সার্ভিস এর গুরুত্ব | ই সার্ভিসের পূর্ণাঙ্গ

ই সার্ভিস এর গুরুত্ব, ই সার্ভিসের পূর্ণাঙ্গ এই বিষয়ে জানার জন্য প্রথমেই আমাদের জানতে হবে ই-সার্ভিস কি? মূলত অনেকেই ই সার্ভিস সম্পর্কে জানেন না।

ই সার্ভিস এর গুরুত্ব

ই-সার্ভিস সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন। আজকের আর্টিকেলে ই সার্ভিসের গুরুত্ব, ই সার্ভিসের পূর্ণাঙ্গ ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।

আজকের বিষয় সমুহ।

ই সার্ভিস এর গুরুত্ব

মূলত অনলাইন অথবা ইলেকট্রনিক ভাবে কোন কিছুর যেমন, টিকিটের মূল্য পরিশোধ, ইলেকট্রিক বিল, পানির বিল, গ্যাসের বিল ইত্যাদি পরিশোধ করা যায়। এর মাধ্যমে স্বল্প সময়, স্বল্প খরচ পাশাপাশি নানান রকম হয়রানি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ই-সার্ভিস বর্তমান সময়ে আমাদের সবারই দৈনন্দিন জীবনে বিশেষভাবে ভূমিকা রাখছে।

কেননা কি সার্ভিস সেবাটি যদি না থাকতো। তাহলে হয়তো বা সবকিছুই আমাদের নিজের হাতে হাতে, অথবা কিছু পথ পাড়ি দিয়ে কাজগুলো সম্পন্ন করতে হতো। কিন্তু এই সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই আমরা প্রায় সমস্ত কাজ খুব সহজে স্বল্প সময় করতে পারি। এই সার্ভিসটি গ্রহণ করার জন্য শুধুমাত্র হাতে একটি স্মার্ট ফোন থাকলেই যথেষ্ট। আর এই ডিজিটাল যুগে প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে একটি দুটি করে স্মার্ট ফোন রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় আমাদের দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। যার তুলনামূলক একটি উদাহরণ এ সার্ভিস। যার মাধ্যমে আমাদের বিশেষ করে যে সমস্যাটা অর্থাৎ হয়রানি থেকে মুক্তি পেয়েছি। যেহেতু ই সার্ভিস এখন প্রায় সব জায়গায় প্রচলিত। তাই আমরা চেষ্টা করব নিজেকে হয়রানি থেকে মুক্তি করার জন্য, সময় বাঁচানোর জন্য এবং স্বল্প খরচে স্মার্টফোনের মাধ্যমে সম্পন্ন করব।

ই সার্ভিসের পূর্ণাঙ্গ

ই-সার্ভিস এর পূর্ণাঙ্গ সম্পর্কে অনেকেই জানেনা। ই-সার্ভিসের পূর্ণরূপ হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক সার্ভিস। ইলেকট্রনিকের মাধ্যমে অথবা অনলাইনের মাধ্যমে যে সকল সার্ভিস গুলো গ্রহণ করা হয়ে থাকে। সেই সার্ভিসকে ই-সার্ভিস বলা হয়ে থাকে। বর্তমান সময়েই সবাই ই-সার্ভিসের সুবিধা গ্রহণ করে থাকি। এখন প্রায় সবারই ঘরে ওয়াইফাই এর লাইন লাগানো আছে। এই ওয়াইফাই এর বিল দিতে গেলে অনলাইনে পে করতে হয়। এটি মূলত একটি ই-সার্ভিসের উদাহরণ।

পাশাপাশি শহর এলাকায় পানির বিল, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাসের বিল, ওয়াইফাই এর বিল ইত্যাদি ই-সার্ভিসের মাধ্যমে পরিশোধ করে থাকেন। তাই বলা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা সবাই ই-সার্ভিসে আওতাভুক্ত।

ই সার্ভিস এর গুরুত্ব

ই সার্ভিসে বাংলাদেশের সেবাগুলো হচ্ছে

বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে ই-সার্ভিসের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ই সার্ভিসে বাংলাদেশের সেবাগুলো হচ্ছে :

অনলাইন ব্যাংকিং: বাংলাদেশের অনেক ব্যাংক অনলাইন ব্যাংকিং সার্ভিস দিয়ে থাকে। গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স চেক করতে, ব্যালেন্স স্থানান্তর করতে, বিল পরিশোধ করতে এবং ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অন্যান্য ব্যাঙ্কিং লেনদেন করা যায়।

ই-গভর্নমেন্ট সার্ভিসেস: বাংলাদেশ সরকার এই ডিজিটাল সময়কে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরনের সেক্টরের সুযোগ সুবিধা গুলো ই সার্ভিসের মাধ্যমে ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইন ট্যাক্স ফাইলিং, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, পাসপোর্ট আবেদন, ভূমি রেকর্ড এবং বিভিন্ন সরকারি কাজকর্মগুলো।

ই-কমার্স: ই-কমার্স এর মাধ্যমে অনলাইনে পণ্য ক্রয় এবং বিক্রয় করা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। যেমন, Daraz, AjkerDeal এবং Evaly-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলি অনলাইন কেনাকাটার জন্য জনপ্রিয়।

অনলাইন টিকেট: বাংলাদেশে এয়ারলাইন্স, রেলওয়ে এবং বাস কোম্পানিগুলি অনলাইন টিকিট বুকিং সার্ভিস দিয়ে থাকে। যার মাধ্যমে যাত্রীরা খুব সহজেই ওয়েবসাইট অথবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খুব সহজেই অনলাইন টিকিট কাটতে পারে। যার কারণে যাত্রীদের সময়, হয়রানি কোন কিছুই পোহাতে হবে না।

অনলাইন ফুড ডেলিভারি: ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম যেমন ফুডপান্ডা, পাঠাও ফুড ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ থেকে খাবার অর্ডার করতে দেয়। এই সার্ভিসের মাধ্যমে গ্রাহক তার নিজ ঘরে বসে থেকে সেই খাবার গ্রহণ করতে পারে।

এগুলি বাংলাদেশে ই-সার্ভিসের মাত্র কয়েকটি উদাহরণ। ই সার্ভিসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কারণ সবাই হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে চায়। নিজের সময়কে বাঁচাতে চায়। পাশাপাশি স্বল্প খরচেই কাজ মিটিয়ে ফেলতে চায়। এই সবগুলি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই সার্ভিস খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ই-গভর্নেন্স বলতে কি বুঝায়

ই গভর্নেন্স বলতে সরকারী সংস্থা গুলোর মাধ্যমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইসিটি) ব্যবহারকে বোঝায়। যাতে সরকারের সেবাগুলো পাশাপাশি সরবরাহের দক্ষতা, কার্যকারিতা বাড়ানো যায়। এটি সরকারী কার্যক্রমের ডিজিটাল একটি উপায়। নিচে কিছু সরকারি সংস্থার নাম এবং সে বিষয়ে উল্লেখ করা হলো।

অনলাইন সার্ভিস ডেলিভারি: ই গভর্নেন্স এর মাধ্যমে প্রায়ই অনলাইনে সরকারি পরিষেবা দিয়ে থাকেন সরকার। যা নাগরিক ও ব্যবসায়িকদের তথ্য নিতে, তাদের লাইসেন্স এবং পারমিটের জন্য আবেদন করতে, কর প্রদান করতে এবং ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অন্যান্য সরকারি সার্ভিস পেতে পারে।

ডিজিটাল যোগাযোগ: ই-গভর্নেন্স সরকারী কোন কর্মসূচির জন্য অথবা দূর থেকে প্রশাসনিক সুবিধা পেতে ইমেল, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন ফোরামের মতো ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে যোগাযোগের সুবিধা দিয়ে থাকে।

শেষ কথা

আশা করছি উপরে উল্লেখিত সমস্ত তথ্যের মাধ্যমে ই সার্ভিসের গুরুত্ব পাশাপাশি ই সার্ভিসের পূর্ণাঙ্গ অথবা পূর্ণরূপ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। পাশাপাশি আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। সমস্ত কথাগুলো খুব সুন্দর হবে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি। তারপরেও যদি আপনাদের কোথাও বুঝতে কোন অসুবিধা হয়ে থাকে। তাহলে অবশ্যই পোস্টটি পুনরায় পড়বেন। আজকের মত এতটুকুই। দেখা হবে পরের কোন আর্টিকেলে।

আরো পড়ুনঃ কোন দেশে টাকার মান বেশি

Visited 278 times, 2 visit(s) today

Leave a Comment

x