কোন কয়েল ভালো | গন্ধহীন মশার কয়েল

কোন কয়েল ভালো? গন্ধহীন মশার কোয়েল সম্পর্কে অনেকেই google এ সার্চ করে থাকেন। বর্তমান এই গরমের সাথে সাথে মশার জ্বালায় অনেকেই অতিষ্ঠ হয়ে যায়। মশা নিরোধন করার জন্য কয়েল ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু কয়েলেও রয়েছে সাইড ইফেক্ট পাশাপাশি গন্ধ।

কোন কয়েল ভালো | গন্ধহীন মশার কয়েল

এ সমস্ত কথা চিন্তা করে অনেকেই ভালো কয়েল খুজে থাকে। সাথে সাথে গন্ধহীন মশার কয়েল খুঁজে থাকে। কিন্তু অনেকেই জানে না কোন মশার কয়েল ভালো? তাই এ বিষয়ে জানতে পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

আজকের বিষয় সমুহ।

কোন কয়েল ভালো

বাংলাদেশে মশার ওষুধ বাজারজাত করার আগে প্রত্যেকটি পণ্যের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্লান্ট প্রটেকশন উইং থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। সংস্থাটি বলছে, দেশে এই মূহুর্তে ৪৫০টির বেশি ব্র্যান্ডের বিভিন্ন ধরণের মশার ওষুধ পাওয়া যায়।প্রায় ৮০টির মত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এগুলো তৈরি এবং আমদানি করে বাজারজাত হচ্ছে।কিন্তু এত পণ্যের ভিড়ে কিভাবে বুঝবেন, কোন পণ্যটি মানব স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর?

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক কবিরুল বাশার বলেছেন, “যদি দেখা যায় মশা তাড়ানোর জন্য ব্যবহার হওয়া কোন কয়েল বা স্প্রে বা ক্রিম বা বিশেষ ব্যাট বা মশারি ব্যবহারে ঘরের মশা মরে যায়, সাথে ঘরের অন্যান্য পতঙ্গ যেমন টিকটিকি বা অন্য ছোট পোকা মারা যায়, তাহলে বুঝতে হবে সেটি মানব শরীরের জন্য চূড়ান্ত ক্ষতিকর।”

রিপেলেন্টের কাজ হচ্ছে মশা তাড়ানো, কিন্তু বাংলাদেশে দেখা যায় অনেক সময় পণ্যের বিজ্ঞাপনে বলা হয় মশা কার্যকরভাবে মেরে ফেলবে।এর মানে হচ্ছে ওই পণ্যে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে, আর সেটি মানবশরীরের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর।

এসিআই মশার কয়েল

এটি একটি দুর্দান্ত মশার কয়েল। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এসিআই কোম্পানি বিভিন্ন কীটনাশক ঔষধ বাজারের সরবরাহ করছেন। এসিআই কয়েল মশা মারার জন্য খুবই ভালো কাজ করে থাকে। খুবই স্বল্প সময়ে মশা দূর করে থাকে। এটি মানবদেহে কোন সাইড ইফেক্ট করে না। তাছাড়া কিছু অসৎ ব্যবসায়ী টাকার জন্য এসিআই কোম্পানির নকল করে কিছু ক্ষতিকর কয়েল বাজার করে থাকেন। যার মাধ্যমে হয়তোবা মশা দূর হয় না কিন্তু মানব দেহের অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে।

তাই যদি কেউ এসিআই মশার কয়েল কিনতে চায় সেক্ষেত্রে অবশ্যই অরিজিনাল পণ্যটি দেখে তারপর কিনবে। এসিআই মশার কয়েল সাধারণত কালো কালারের হয়ে থাকে। একটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এটি 6 থেকে 7 ঘন্টা পর্যন্ত জ্বলতে থাকে। আর একটি বিশেষ কথা হচ্ছে এই কোয়েলের তেমন কোন গন্ধ নেই।

মশার কয়েল কি ক্ষতিকর

বলতে গেলে কয়েলে কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। মশা তাড়ানোর কয়েল জ্বালালে যে ধোঁয়া বের হয় তার থেকে নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর সঙ্গে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। এছাড়াও নাক জ্বালা, গলা ব্যথা, কাশির মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে ও অ্যাজমা রয়েছে, অথবা ঠান্ডার সমস্যা রয়েছে তারা অবশ্যই মশা তাড়ানোর কয়েল থেকে দূরে থাকুন।

কয়েলের ধোঁয়া আপনার ফুসফুসের ওপরেও প্রভাব ফেলে। ফলে প্রাথমিকভাবে কাশির সমস্যার পাশাপাশি পরবর্তীকালে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারসিনোজিনস থাকে মশা তাড়ানোর কয়েলের মধ্যে। এর মাধ্যমেই ফুসফুসের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। যাদের ত্বক খুব সেনসিটিভ তাদের ক্ষেত্রে মশা তাড়ানোর কয়েল থেকে ত্বকে অ্যালার্জি, র‍্যাশ, চালুকানি, লালভাব ইত্যাদি অস্বস্তিকর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আরো পড়ুনঃ সিঙ্গাপুরে কোন কাজের চাহিদা বেশি

যাদের মাথা যন্ত্রণা হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তারা ঘরে কয়েল না রাখাই ভালো। বিশেষ করে খুব অল্পেই যাদের মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায় তারা মশা তাড়ানোর কয়েলের ধোঁয়া, গন্ধ কিছুই সহ্য করতে পারেন না। আর এই গন্ধ খুবই তীব্র হয়। অতএব মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে সাবধানে থাকুন। এমনিতেও ঘরে কয়েল জ্বালানো থাকলে ওই তীব্র গন্ধ ও ধোঁয়ায় একটা দমবন্ধ করা অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়। বাড়িতে বাচ্চা এবং বয়স্ক মানুষ থাকলে কয়েল থেকে তাদের অবশ্যই দূরে রাখুন। 

মশার কয়েল তৈরির উপাদান

মশার কয়েলের প্রধান উপাদান হলো পাইরোফ্রয়েড। এটি প্রাকৃতিক যৌগ পাইরোগ্রাম থেকে পাওয়া যায়। অ্যালেট্রিন-এর মতো সমধমর্ী যৌগ থেকেও পাওয়া যায়। ম্যাটেও অনুরূপ পাইরোফ্রয়েড থাকে। তবে তাতে অনবরত নির্দিষ্ট তাপমাত্রা প্রয়োগ করতে হয়।

তাপ পেলে ম্যাটের পাইরোফ্রয়েড বাষ্পীভূত হয়। নির্দিষ্ট তাপমাত্রা প্রয়োগের জন্য ম্যাটকে ম্যাটহিটারের হিটপেস্নটে রাখতে হয়। এর আসল সক্রিয় উপাদান হলো কীটনাশক ডিডিটি বা পিণ্ডেনের মতো ক্লোরিনেটেড হাইড্রোকার্বন, প্যারাফিনের মতো আরপ্যানো ফসফরাস যৌগ এবং কার্বন।

প্রায় সমস্ত মশার কয়েলেই থাকে অ্যালেট্রিন। এর সঙ্গে ফেনল ও ক্রেসল- দু’টি জৈবযৌগ ব্যবহার করা হয়। কয়েলে উলিস্নখিত উপাদানগুলোর পরিমাণ মানুষের সহনীয় মাত্রার মধ্যেই থাকে বলে দাবি করে ব্যবসা করছে কয়েল প্রস্তুতকারক কোম্পানি। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কতকগুলো কীটনাশককে মশার কয়েলে ব্যবহারের জন্য নিরাপদ বলে চিহ্নিত করলেও আজ পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো মান নির্ধারিত হয়নি।

মশার কয়েল তৈরির মেশিনের দাম

মশার কয়েল তৈরির মেশিনের দাম তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা। তবে বর্তমানে মশা মারার ভালো মেশিনের নাম হল ফোরড্রিনিয়ার পেপার মেশিন টাইপ। কয়েল আরো উন্নত এবং ঐতিহ্যবাহী করতে এই মেশিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি মশার কয়েল তৈরি করতে চান, প্রয়োজন পাঞ্চিং মেশিন পাঞ্চ, স্প্রে মেশিন কেমিক্যাল স্প্রে এবং চূড়ান্ত প্যাকিং মেশিন প্যাক করার জন্য এই মেশিনটি অনেক ভালো কাজ করে থাকে।

শেষ কথা

আশা করছি করে উল্লেখিত সমস্ত তথ্যের মাধ্যমে কোন কয়েলটি সব থেকে ভালো তা বুঝতে পেরেছেন। আমি চেষ্টা করেছি সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করার জন্য। সমস্ত কথাগুলো খুব সহজভাবে লেখার জন্য জন্য চেষ্টা করেছি।

কোন কয়েল ভালো? কোন কয়েলের গন্ধ নেই? এ সমস্ত বিষয়ের পাশাপাশি অন্যান্য সকল বিষয়ে খুব সুন্দর হবে তুলে ধরা হয়েছে। এই ধরনেরই সব ইনফরমেটের আর্টিকেল পড়তে চাইলে আমাদের সাথে থাকবেন। আজকের মত এতটুকুই দেখা হবে পরের কোন আর্টিকেলে।

আরো পড়ুনঃ কোন দেশে টাকার মান বেশি

Visited 75 times, 1 visit(s) today

Leave a Comment

x