পাসপোর্ট কিভাবে তৈরি করে

পাসপোর্ট কিভাবে তৈরি করে? এ বিষয়টি নিয়ে অনেকেই জানে না। এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রবেশ করার জন্য অবশ্যই পাসপোর্ট এর প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু প্রথম যারা এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রবেশ করবে এর মধ্যে অনেকেই পাসপোর্ট কিভাবে তৈরি করা হয় তা জানে না।

পাসপোর্ট কিভাবে তৈরি করে

তাদের জন্যই মূলত আজকের আর্টিকেল। পাশাপাশি পাসপোর্ট তৈরি করতে কতদিন সময় লাগে, পাসপোর্ট তৈরি করতে কি কি প্রয়োজন ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হবে। তো চলুন বেশি কথা না বাড়িয়ে চলে যায় আজকের আর্টিকেলে।

আজকের বিষয় সমুহ।

পাসপোর্ট কিভাবে তৈরি করে

মূলত একজন নাগরিকের সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাজনিত বিভিন্ন কারণে পাসপোর্ট এর প্রয়োজন পড়ে থাকে। তো কিভাবে পাসপোর্ট তৈরি করা হয় এ বিষয়ে নিচে স্টেপ ভাবে দেওয়া হল।

আবেদন জমা দেওয়া: পাসপোর্ট তৈরির জন্য প্রথমেই পাসপোর্ট অফিসে আপনাকে একটি আবেদন করতে হবে। মূলত একজন উপযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাকে এই আবেদন ফরম জমা দিতে হয়।

যাচাইকরণ: এরপর পাসপোর্ট এর সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য আপনার দেওয়া আবেদনটি যাচাই করা হয়। যেমন, আবেদনকারীর পরিচয় পত্র, নাগরিকত্বের অবস্থা এবং পাশাপাশি অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে যাচাই করা হয়।

ডেটা এন্ট্রি: আবেদন যাচাই করা হয়ে গেলে, আবেদনকারীর তথ্য একটি ডাটাবেসে প্রবেশ করানো হয়ে থাকে। এই ডাটাবেসে পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত বিবরণ ও তথ্য থাকবে।

বায়োমেট্রিক ডেটা সংগ্রহ: বায়োমেট্রিক ডেটা সংগ্রহ করার জন্য আবেদনকারীর কাছ থেকে আঙ্গুলের ছাপ এবং একটি ডিজিটাল ফটোগ্রাফ সহ চোখের রেটিনার ডেটা সংগ্রহ করা হয়। এই ডেটা নিরাপদে সংরক্ষণ করার পর একটি পরবর্তীতে সনাক্তকরণের জন্য পাসপোর্টে যোগ করে দেওয়া হয়।

ডকুমেন্ট প্রিন্ট: সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং যাচাই করার পরে পাসপোর্ট বুকলেট প্রিন্ট করা হয়ে থাকে। এতে সাধারণত ব্যক্তিগত তথ্য, একটি পাসপোর্ট ফটো এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যেমন ওয়াটারমার্ক অন্তর্ভুক্ত থাকে।

সিকিউরিটি: জালিয়াতি passport অথবা date expired প্রতিরোধ করার জন্য এটি বিভিন্ন পদ্ধতিতে সিকিউরিটি চেক করা হয়।

কোয়ালিটি কন্ট্রোল: এইখানে পাসপোর্ট ইস্যু করার আগে প্রতিটি প্রয়োজনীয় তথ্য এবং সমস্ত বৈশিষ্ট্য গুলো খুব ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয়।

ব্যক্তিগত তথ্য: পাসপোর্ট প্রিন্ট করা হয়ে গেলে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত সকল তথ্য এবং বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়ে সিকিউর করা হয়। এই পাসপোর্ট এর ভিতরে চিপ এনকোড করা হয়। তবে যদি সেই পাসপোর্ট ইলেকট্রনিক হয়ে থাকে। আবেদনকারীর স্বাক্ষর দেওয়াও লাগতে পারে।

ইস্যুকরণ: উপরোক্ত সকল ধাপ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য হচ্ছে সম্পূর্ণ হলে পাসপোর্ট ইস্যু করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়।

পাসপোর্ট তৈরির সবগুলো ধাপ খুব সুন্দর হবে উপরে দেওয়া হল। মূলত এই ভাবেই একটি পাসপোর্ট তৈরি করতে হয়।

ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

প্রাপ্তবয়স্কদের ই পাসপোর্ট করতে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট আবেদনের জন্য অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হয়। যারা এখনো আইডি কার্ড হাতে পাননি তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের পরিবর্তে জন্ম নিবন্ধন ব্যবহার করে আবেদন করতে পারবেন।

সরকারি চাকরিজীবীদের ই পাসপোর্ট করতে GO অথবা NOC প্রয়োজন হয়। এই ডকুমেন্টস গুলোর সাথে নাগরিকত্ব সনদ অথবা চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট সেই সাথে পেশাজীবী প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।

সাবমিট করার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে পাসপোর্ট ফি পেমেন্ট করা। পেমেন্ট মাধ্যমিক হিসেবে অফলাইন বাছাই করলে ব্যাংকের মাধ্যমে ই পাসপোর্টটি পরিশোধ করতে হবে। ই পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করা হয়ে গেলে ব্যাংক থেকে পেমেন্ট স্লিপ দেওয়া হবে। এটি আবেদনের ডকুমেন্টের সাথে যুক্ত করুন।

অপ্রাপ্তবয়স্ক কিংবা বিশ বছরের নিচে যাদের এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র হয়নি তারা আবেদনের সাথে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে।

বর্তমানে জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্য আবেদন করা খুবই সহজ। অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র আবেদন করে ২১ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে NID Card Download করে সেটি যেকোন কাজে ব্যবহার করা যায়।

সরকারি চাকরিজীবীদের পাসপোর্ট আবেদনের জন্য এক্সট্রা ডকুমেন্ট হিসেবে GO অথবা NOC পেপার দাখিল করতে হয়।

ই পাসপোর্ট আবেদনকারীর বয়স এবং পেশার উপর ভিত্তি করে আবেদনের সাথে জমাকৃত কাগজপত্রের ভিন্নতা দেখা যায়। যেমন শিশুদের পাসপোর্ট করতে যে সকল ডকুমেন্ট প্রয়োজন তার থেকে প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশী নাগরিকের ই পাসপোর্ট আবেদন করতে কিছু ডকুমেন্টের ভিন্নতা দেখা যায়।

তেমনিভাবে সাধারণ জনগণ এবং সরকারি চাকরিজীবীদের পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রেও পাসপোর্ট করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে কিছুটা ভিন্ন হয়।

শিশুদের ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

শিশুদের পাসপোর্ট আবেদন করার জন্য অনলাইন জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন। তার সাথে শিশুর পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি আবেদনের সাথে অবশ্যই সংযুক্ত করতে হবে। যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই তারা পাসপোর্ট আবেদনের সাথে পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক।

শিশুদের পাসপোর্ট করতে যে সকল কাগজপত্র এবং ডকুমেন্টের প্রয়োজন হয় তা নিচে লিস্ট আকারে প্রকাশ করা হলো-

  • অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ
  • পিতা-মাতার আইডি কার্ডের ফটোকপি
  • Passport Application Summary
  • Application Form
  • পাসপোর্ট ফি পরিশোধের রশিদ
  • 3R Size ছবি Lab Print, Gray Background

হারানো পাসপোর্ট রি ইস্যু করতে কি লাগে?

হারানো পাসপোর্ট পুনরায় পেতে হলে রি ইস্যু আবেদন করতে হয়। আবেদন প্রক্রিয়া নতুন পাসপোর্ট আবেদনের প্রক্রিয়ার মতই। পাসপোর্ট করতে যে সকল ডকুমেন্ট জমা দিতে হয় তার সাথে অতিরিক্ত ডকুমেন্ট হিসেবে পাসপোর্ট হারানো জিডি সংযুক্ত করতে হয়।

পাসপোর্ট কিভাবে তৈরি করে

সরকারি চাকরিজীবীদের পাসপোর্ট আবেদন

  • আবেদনকারীর ভোটার আইডি কার্ডের কপি
  • নাগরিক সনদপত্র
  • অনলাইনে আবেদন রেজিস্ট্রেশন ফরম
  • আবেদনের পরে অনলাইন আবেদনের কপি
  • ব্যাংক ড্রাফট এর রশিদ
  • সম্প্রতি তোলা 3R Size এর ছবি
  • NOC (No Objection Certificate) বা GO (Government Order)

সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকের থেকে (NOC ও GO) এই ২টি ডকুমেন্ট বেশি প্রয়োজন হবে। যারা রাষ্ট্রীয় কাজে সরকারি আদেশে দ্রুত দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট এর আবেদন করবে, তাদের ক্ষেত্রে GO (Government Order) প্রয়োজন।

এবং সরকারি কর্মকর্তারা বিদেশ ভ্রমণের জন্য পাসপোর্ট এর আবেদন করলে, তার মন্ত্রণালয় কিংবা অভিদপ্তর থেকে NOC (No Objection Certificate) ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে জমা দিতে হবে। এই ডকুমেন্টগুলো ব্যতীত সরকারি চাকরিজীবীদের অন্য কোন ডকুমেন্টস প্রয়োজন নেই।

প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

প্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ যাদের বয়স ১৮ কিংবা তার বেশি তাদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট করতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র, নাগরিক সনদ প্রয়োজন হয়।

  • আইডি কার্ডের ফটো কপি
  • ই পাসপোর্ট আবেদনের সামারি
  • Application Form
  • পাসপোর্ট ফি পরিশোধের চালান / ব্যাংক ড্রাফ
  • পেশা ছাত্র ছাত্রী হলে Student ID card
  • নাগরিক সনদ

শেষ কথা

আশা করছি উপরোক্ত সকল তথ্যের মাধ্যমে পাসপোর্ট কিভাবে তৈরি করে সে সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেয়েছেন। আমি চেষ্টা করেছি সমস্ত তথ্য আপনাদের সামনে খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার জন্য। সমস্ত কথাগুলো খুব সহজভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

এরপরেও যদি আপনাদের কোথাও বুঝতে কোনো অসুবিধা হয়ে থাকে তবে অবশ্যই পোস্টটি পুনরায় মনোযোগ সহকারে করবেন। আজকের মত এতটুকুই। সবাই সুস্থ থাকবেন ভালো থাকবেন।

আরো পড়ুনঃ কোন দেশে টাকার মান বেশি

Visited 92 times, 1 visit(s) today

Leave a Comment

x