বাংলাদেশে রেডিওথেরাপি খরচ কত

হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সকলেই খুব ভালো আছেন। আপনারা অনেকেই বাংলাদেশে রেডিওথেরাপি খরচ কত সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। আজকে আমি আপনাদেরকে বাংলাদেশে রেডিওথেরাপি খরচ কত সম্পর্কে বলবো। তো চলুন শুরু করা যাক।

বাংলাদেশে রেডিওথেরাপি খরচ কত

বাংলাদেশে রেডিওথেরাপির খরচ বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে, যেমন:

১) প্রতিষ্ঠান:

  • সরকারি হাসপাতালে: রেডিওথেরাপির খরচ অনেক কম। প্রতিবার চিকিৎসার জন্য ২০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা হতে পারে।
  • বেসরকারি হাসপাতালে: রেডিওথেরাপির খরচ অনেক বেশি। প্রতিবার চিকিৎসার জন্য ৪,০০০ টাকা থেকে ৮০,০০০ টাকা হতে পারে।

২) চিকিৎসার ধরণ:

  • बाह्य किरण विकिरण (External Beam Radiation Therapy): এই ধরণের চিকিৎসার খরচ তুলনামূলক কম
  • অন্তঃস্থ বিম বিকিরণ চিকিৎসা (Brachytherapy): এই ধরণের চিকিৎসার খরচ বেশি

৩) রোগীর অবস্থা:

  • রোগের পরিমাণ এবং জটিলতা রেডিওথেরাপির খরচকে প্রভাবিত করে।

৪) ব্যবহৃত প্রযুক্তি:

  • আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেডিওথেরাপি করলে খরচ বেশি হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ:

  • ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে: बाह्य किरण विकिरण (External Beam Radiation Therapy) প্রতিবার ৫০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকা
  • ইউনাইটেড হাসপাতালে: बाह्य किरण विकिरण (External Beam Radiation Therapy) প্রতিবার ১০,০০০ টাকা থেকে ২০,০০০ টাকা
  • ব্র্যাক থেরাপি: ৫০,০০০ টাকা থেকে ২,০০,০০০ টাকা

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • সরকারি হাসপাতালে রেডিওথেরাপির জন্য দীর্ঘ লাইন থাকতে পারে।
  • বেসরকারি হাসপাতালে তুলনামূলকভাবে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া যায়।
  • আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের জন্য সরকারি এবং বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সহায়তা প্রদান করে।

আপনার জন্য সঠিক খরচ জানতে, একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা** সবচেয়ে ভালো।

রেডিও থেরাপি কতদিন দিতে হয়

বাংলাদেশে রেডিও থেরাপি কতদিন দিতে হবে তা নির্ভর করে বেশ কিছু বিষয়ের উপর, যেমন:

১) রোগের ধরণ:

  • ক্যান্সারের ধরণ রেডিও থেরাপির মোট সময়কাল নির্ধারণ করে।
  • কিছু ক্যান্সারের জন্য কয়েক সপ্তাহ রেডিও থেরাপি যথেষ্ট, আবার কিছু ক্যান্সারের জন্য কয়েক মাস থেকে এক বছর বা তারও বেশি সময় রেডিও থেরাপি দিতে হতে পারে।

২) রোগের পর্যায়:

  • ক্যান্সার কতটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে তার উপরও রেডিও থেরাপির মোট সময়কাল নির্ভর করে।
  • প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যান্সারের জন্য কম সময় রেডিও থেরাপি দিতে হয়, অগ্রসর পর্যায়ের ক্যান্সারের জন্য বেশি সময় রেডিও থেরাপি দিতে হয়।

৩) রোগীর স্বাস্থ্য:

  • রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য রেডিও থেরাপির মোট সময়কাল নির্ধারণ করে।
  • যদি রোগী শারীরিকভাবে দুর্বল হন, তাহলে তাদের কম সময় রেডিও থেরাপি দেওয়া যেতে পারে।

৪) ব্যবহৃত প্রযুক্তি:

  • আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেডিও থেরাপি করলে কম সময়ে চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব।

উদাহরণস্বরূপ:

  • মাথার এবং ঘাড়ের ক্যান্সার: ৬-৭ সপ্তাহ
  • স্তনের ক্যান্সার: ৫-৬ সপ্তাহ
  • প্রোস্টেট ক্যান্সার: ৭-৮ সপ্তাহ
  • জরায়ুর ক্যান্সার: ৫-৬ সপ্তাহ

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • রেডিও থেরাপি সপ্তাহে ৫ দিন করা হয় এবং শুক্রবার ও শনিবার ছুটি থাকে।
  • প্রতিটি চিকিৎসা কয়েক মিনিট থেকে ৩০ মিনিট সময় ধরে চলে।
  • চিকিৎসার সময় রোগীকে একটি বিশেষ টেবিলে শুয়ে থাকতে হয়।
  • একজন টেকনিশিয়ান মেশিন চালাবেন এবং রোগীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী প্রদান করবেন।

রেডিয়েশন থেরাপি কী এবং কেমন করে দেওয়া হয়?

রেডিওথেরাপি, যা বিকিরণ থেরাপি নামেও পরিচিত, ক্যান্সারের কোষগুলোকে মেরে ফেলতে বা তাদের বৃদ্ধি রোধ করতে উচ্চ-শক্তির বিকিরণ ব্যবহার করে। এটি ক্যান্সারের চিকিৎসার একটি সাধারণ পদ্ধতি যা একা বা অন্যান্য চিকিৎসার সাথে ব্যবহার করা যেতে পারে।

রেডিওথেরাপির কয়েকটি প্রধান ধরণ রয়েছে:

  • बाह्य किरण विकिरण (External Beam Radiation Therapy): এই ধরণের থেরাপিতে, একটি মেশিন শরীরের বাইরে থেকে উচ্চ-শক্তির বিকিরণ নির্দিষ্ট এলাকায় প্রেরণ করে।
  • অন্তঃস্থ বিম বিকিরণ চিকিৎসা (Brachytherapy): এই ধরণের থেরাপিতে, বিকিরণের উৎস শরীরের ভেতরে স্থাপন করা হয়, ক্যান্সারযুক্ত টিউমারের কাছে।
  • সিস্টেমিক রেডিওথেরাপি: এই ধরণের থেরাপিতে, বিকিরণ শিরায় ইনজেকশন করা হয় এবং সারা শরীরে প্রবাহিত হয়।

রেডিওথেরাপি কীভাবে কাজ করে?

রেডিওথেরাপি ক্যান্সারের কোষগুলোর ডিএনএ কে ক্ষতিগ্রস্ত করে কাজ করে। ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ কোষগুলোকে মারতে পারে অথবা তাদের বৃদ্ধি রোধ করতে পারে। সুস্থ কোষগুলো কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা সেরে উঠতে সক্ষম হয়।

রেডিওথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

রেডিওথেরাপির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, তবে সবাই এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনুভব করে না। সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ত্বকের সমস্যা: যেমন লালভাব, শুষ্কতা, ফোলাভাব, এবং পোড়া
  • ক্লান্তি
  • খাবার খাওয়ার সমস্যা
  • মুখের ঘা
  • বমি বমি ভাব
  • চুল পড়া

আপনার ডাক্তার আপনাকে আপনার সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আরও জানাতে পারবেন এবং সেগুলো কীভাবে মোকাবেলা করতে হয় সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারবেন।

রেডিওথেরাপি কার জন্য উপযুক্ত?

রেডিওথেরাপি বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। আপনার জন্য রেডিওথেরাপি উপযুক্ত কিনা তা নির্ধারণ করতে আপনার ডাক্তার আপনার ক্যান্সারের ধরণ, পর্যায় এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের মূল্যায়ন করবেন।

রেডিয়েশনের কতদিন পর হরমোন থেরাপি শুরু হয়?

রেডিওথেরাপির পর হরমোন থেরাপি শুরু করার সময়সীমা বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে, যেমন:

১) ক্যান্সারের ধরণ:

  • কিছু ক্যান্সারের জন্য, রেডিওথেরাপির সাথে সাথে হরমোন থেরাপি শুরু করা হয়।
  • অন্যান্য ক্যান্সারের জন্য, রেডিওথেরাপি শেষ হওয়ার পর কিছু সময় অপেক্ষা করে হরমোন থেরাপি শুরু করা হয়।

২) রোগীর স্বাস্থ্য:

  • যদি রোগী শারীরিকভাবে দুর্বল হন, তাহলে তাদের রেডিওথেরাপির পর কিছু সময় বিশ্রাম নিতে হতে পারে এবং তারপর হরমোন থেরাপি শুরু করা হয়।

৩) ব্যবহৃত হরমোন থেরাপি:

  • কিছু ধরণের হরমোন থেরাপি প্রতিদিন বা সপ্তাহে একবার গ্রহণ করা হয়।
  • অন্যান্য ধরণের হরমোন থেরাপি মাসে একবার বা কম বার গ্রহণ করা হয়।

উদাহরণস্বরূপ:

  • স্তনের ক্যান্সার: রেডিওথেরাপির সাথে সাথে বা রেডিওথেরাপির পর ৫ বছর পর্যন্ত টামোক্সিফেন (Tamoxifen) নামক হরমোন থেরাপি দেওয়া যেতে পারে।
  • প্রোস্টেট ক্যান্সার: রেডিওথেরাপির পর লেউপ্রোলাইড অ্যাসিটেট (Leuprolide acetate) নামক হরমোন থেরাপি দেওয়া যেতে পারে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • হরমোন থেরাপি দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা হতে পারে।
  • এই চিকিৎসার অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।
  • আপনার জন্য কখন হরমোন থেরাপি শুরু করা উচিত তা আপনার ডাক্তার নির্ধারণ করবেন

টিউমার কত বড় মাপের হলে রেডিয়েশন দেওয়া হয়?

টিউমারের আকার রেডিওথেরাপির প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণের একমাত্র কারণ নয়। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ক্যান্সারের ধরণ: কিছু ধরণের ক্যান্সার রেডিওথেরাপির প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয় অন্যগুলোর তুলনায়।
  • ক্যান্সারের পর্যায়: অগ্রসর পর্যায়ের ক্যান্সারের জন্য বেশি রেডিওথেরাপির প্রয়োজন হতে পারে।
  • রোগীর স্বাস্থ্য: যদি রোগী শারীরিকভাবে দুর্বল হন, তাহলে তাদের কম রেডিওথেরাপি দেওয়া যেতে পারে।
  • অন্যান্য চিকিৎসার উপলব্ধতা: অস্ত্রোপচার বা কিমোথেরাপির মতো অন্যান্য চিকিৎসা রেডিওথেরাপির প্রয়োজনীয়তাকে প্রভাবিত করতে পারে।

সাধারণভাবে বলা যায়, ১ সেন্টিমিটারের চেয়ে ছোট টিউমারের জন্য রেডিওথেরাপি প্রয়োজন হয় না। তবে, কিছু ক্ষেত্রে, একটি ছোট টিউমারের জন্যও রেডিওথেরাপি দেওয়া যেতে পারে, যদি ক্যান্সার বেশি আক্রমণাত্মক হয় বা অন্যান্য ঝুঁকির কারণ থাকে।

অন্যদিকে, ৫ সেন্টিমিটারের চেয়ে বড় টিউমারের জন্য সাধারণত রেডিওথেরাপি প্রয়োজন হয়। তবে, এই নিয়মের অনেক অপবাদ আছে।

আপনার টিউমারের জন্য রেডিওথেরাপি প্রয়োজন কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণতারা আপনার ক্যান্সারের ধরণ এবং পর্যায় সহ সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করবেন এবং আপনার জন্য সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করবেন।

রেডিও থেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

রেডিও থেরাপি ক্যান্সারের কোষগুলোকে ধ্বংস করতে উচ্চ-শক্তির বিকিরণ ব্যবহার করে। এই বিকিরণ সুস্থ কোষগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ত্বকের সমস্যা: লালভাব, শুষ্কতা, ফোলাভাব, পোড়াভাব, চুলকানি, এবং ত্বকের কালচে হয়ে যাওয়া।
  • ক্লান্তি: দুর্বলতা এবং শক্তির অভাব।
  • খাবার খাওয়ার সমস্যা: মুখে ব্যথা, গলা ব্যথা, স্বাদের পরিবর্তন, এবং গিলে ফেলায় অসুবিধা।
  • মুখের ঘা: মুখের ভেতরের অংশে ব্যথাযুক্ত ঘা।
  • বমি বমি ভাব এবং বমি:
  • চুল পড়া: চুলের পরিমাণ কমে যাওয়া।
  • প্রজনন সমস্যা: পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব এবং মহিলাদের মাসিক চক্র বন্ধ হয়ে যাওয়া।

কিছু কম সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • নিউরোলজিকাল সমস্যা: স্মৃতিশক্তি হ্রাস, মাথাব্যথা, এবং ঝিঁঝিঁ করা।
  • ফুসফুসের সমস্যা: শ্বাসকষ্ট এবং কাশি।
  • হৃদরোগের সমস্যা: বুকে ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো ব্যক্তির উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয় এবং চিকিৎসার সময়কাল এবং বিকিরণের ডোজের উপর নির্ভর করে। আপনার ডাক্তার আপনাকে সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আরও জানাতে পারবেন এবং সেগুলো কীভাবে মোকাবেলা করতে হয় সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারবেন।

কিছু টিপস যা রেডিও থেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে:

  • ত্বকের যত্ন: নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন এবং ত্বককে রোদ থেকে রক্ষা করুন।
  • মুখের যত্ন: নরম ব্রাশ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন এবং লবণাক্ত বা ঝাল খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া: প্রচুর পরিমাণে ফল, শাকসবজি এবং পূর্ণ শস্য খান।
  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম: প্রতিদিন ৭-৮ ঘন্টা ঘুমান।
  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান: প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।
  • ধূমপান এড়িয়ে চলুন: ধূমপান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোকে আরও খারাপ করতে পারে।
  • আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন: আপনার যদি কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় তবে আপনার ডাক্তারকে জানান।
পরিশেষে

আমি আশা করছি আপনারা আপনাদের বাংলাদেশে রেডিওথেরাপি খরচ কত এই প্রশ্নের উওর পেয়েছেন। আরো কিছু জানার থাকলে নিচে কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

আরো পড়ুনঃ পাসপোর্ট কিভাবে তৈরি করে

Visited 8 times, 1 visit(s) today

Leave a Comment

x