সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট দেখতে কেমন

হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সকলেই খুব ভালো আছেন। আপনারা অনেকেই সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট দেখতে কেমন সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। আজকে আমি আপনাদেরকে সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট দেখতে কেমন সম্পর্কে বলবো। তো চলুন শুরু করা যাক।

আজকের বিষয় সমুহ।

সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট দেখতে কেমন

সার্বিয়ার ওয়ার্ক পারমিট একটি প্লাস্টিকের কার্ড যার আকার ৮৫.৬০ মিমি x ৫৩.৯৮ মিমি (আইডি-১ কার্ডের আকার)। কার্ডের সামনের দিকে নিম্নলিখিত তথ্য রয়েছে:

  • কার্ডধারীর ছবি
  • কার্ডধারীর নাম
  • কার্ডধারীর জন্ম তারিখ
  • কার্ডধারীর নাগরিকত্ব
  • কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ
  • ওয়ার্ক পারমিট নম্বর
  • জারিকারী কর্তৃপক্ষের নাম এবং লোগো

কার্ডের পিছনের দিকে নিম্নলিখিত তথ্য রয়েছে:

  • কার্ডধারীর ঠিকানা
  • কার্ডধারীর পেশা
  • নিয়োগকর্তার নাম এবং ঠিকানা
  • কাজের অনুমতির ধরন (উদাহরণস্বরূপ, কর্মী, ম্যানেজার, ইত্যাদি)
  • অনুমোদিত কাজের ঘন্টা

কার্ডটি সার্বিয়ান এবং ইংরেজিতে মুদ্রিত হয়েছে।

Image of সার্বিয়ার ওয়ার্ক পারমিট

কিভাবে আবেদন করবেন একটি সার্বিয়ান ওয়ার্ক পারমিটের জন্য

আপনি যদি সার্বিয়ায় কাজ করতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই একটি ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে হবে। আপনি সার্বিয়ার একটি কূটনৈতিক বা কনস্যুলার মিশনে বা সার্বিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।

আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • একটি বৈধ পাসপোর্ট
  • একটি পূরণ করা আবেদনপত্র
  • একটি সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ
  • আপনার কর্ম অভিজ্ঞতার প্রমাণ
  • একটি মেডিকেল সার্টিফিকেট
  • আপনার নিয়োগকর্তার কাছ থেকে একটি চাকরির চিঠি
  • আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ

আবেদন প্রক্রিয়াকরণের সময়

আবেদন প্রক্রিয়াকরণের সময় সাধারণত কয়েক মাস সময় নেয়।

ওয়ার্ক পারমিট ফি

ওয়ার্ক পারমিট ফির পরিমাণ আপনার আবেদন করার সময় আপনার বয়স এবং নাগরিকত্বের উপর নির্ভর করে।

ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা

একটি সার্বিয়ান ওয়ার্ক পারমিট সাধারণত এক বছরের জন্য বৈধ থাকে। এটি এক বছরের জন্য নবায়ন করা যেতে পারে।

সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট চেক

আপনি নিম্নলিখিত উপায়ে আপনার সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট চেক করতে পারেন:

১. অনলাইন:

  • কোম্পানিওয়াল ওয়েবসাইট: https://www.companywall.rs/ ওয়েবসাইটে যান এবং নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করুন:

    • “Foreigners” ট্যাবে ক্লিক করুন।
    • “Work Permit Check” বিকল্পটি নির্বাচন করুন।
    • আপনার ওয়ার্ক পারমিট নম্বর এবং জন্ম তারিখ প্রবেশ করুন।
    • “Check” বোতামে ক্লিক করুন।
  • ই-গভর্নমেন্ট পোর্টাল: https://euprava.gov.rs/en/ ওয়েবসাইটে যান এবং নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করুন:

    • “Services” ট্যাবে ক্লিক করুন।
    • “Foreigners” বিকল্পটি নির্বাচন করুন।
    • “Work Permit Check” বিকল্পটি নির্বাচন করুন।
    • আপনার ওয়ার্ক পারমিট নম্বর এবং জন্ম তারিখ প্রবেশ করুন।
    • “Check” বোতামে ক্লিক করুন।

২. অফলাইন:

  • আপনার নিয়োগকর্তার সাথে যোগাযোগ করুন: আপনার নিয়োগকর্তা আপনার ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা এবং অন্যান্য তথ্য সম্পর্কে আপনাকে তথ্য দিতে সক্ষম হবে।
  • স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে যান: আপনি আপনার স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে গিয়ে আপনার ওয়ার্ক পারমিট পরীক্ষা করতে পারেন।
  • সার্বিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয় মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করুন: আপনি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট [ভুল URL সরানো হয়েছে] মাধ্যমে বা ইমেলের মাধ্যমে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

ওয়ার্ক পারমিট চেক করার সময় আপনার নিম্নলিখিত তথ্যগুলি প্রয়োজন হবে:

  • আপনার ওয়ার্ক পারমিট নম্বর
  • আপনার জন্ম তারিখ
  • আপনার পূর্ণ নাম
  • আপনার জাতীয়তা

কিছু দরকারী টিপস:

  • আপনার ওয়ার্ক পারমিটের একটি ফটোকপি এবং আপনার পাসপোর্টের একটি ফটোকপি সর্বদা আপনার সাথে রাখুন।
  • আপনার ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়নের জন্য আবেদন করুন।
  • আপনার ওয়ার্ক পারমিট সম্পর্কে আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে, আপনার নিয়োগকর্তা বা সার্বিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয় মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করুন।

সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা 2024

সার্বিয়ায় কাজ করার জন্য আপনার একটি ওয়ার্ক পারমিট এবং ভিসার প্রয়োজন হবে।

ওয়ার্ক পারমিট

কোন ধরণের ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করবেন:

  • কর্মী: আপনার যদি সার্বিয়ায় একটি নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার জন্য কাজ করার প্রস্তাব থাকে, তাহলে আপনার এই ধরণের ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে হবে।
  • ম্যানেজার: আপনার যদি সার্বিয়ায় একটি কোম্পানির ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব থাকে, তাহলে আপনার এই ধরণের ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে হবে।
  • স্ব-নিযুক্ত: আপনার যদি সার্বিয়ায় নিজের ব্যবসা করার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে আপনার এই ধরণের ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে হবে।

ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন:

  • আপনার নিয়োগকর্তা (বা নিজের) সার্বিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয় মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করবে।
  • আবেদনপত্রের সাথে আপনার পাসপোর্ট, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্ম অভিজ্ঞতা, এবং মেডিকেল সার্টিফিকেটের মতো নথিপত্র জমা দিতে হবে।
  • আবেদন প্রক্রিয়াকরণের সময় কয়েক মাস সময় নিতে পারে।

ওয়ার্ক পারমিট ফি:

  • ওয়ার্ক পারমিট ফির পরিমাণ আপনার আবেদন করার সময় আপনার বয়স এবং নাগরিকত্বের উপর নির্ভর করে।

ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা:

  • একটি সার্বিয়ান ওয়ার্ক পারমিট সাধারণত এক বছরের জন্য বৈধ থাকে।
  • এটি এক বছরের জন্য নবায়ন করা যেতে পারে।

ভিসা

আপনার যদি সার্বিয়ায় ৯০ দিনের বেশি সময় থাকার প্রয়োজন হয়, তাহলে আপনার একটি ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।

ভিসার জন্য আবেদন:

  • আপনি আপনার নিকটতম সার্বিয়ান দূতাবাস বা কনস্যুলেটে আবেদন করতে পারেন।
  • আবেদনপত্রের সাথে আপনার পাসপোর্ট, ওয়ার্ক পারমিট, এবং আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণের মতো নথিপত্র জমা দিতে হবে।
  • আবেদন প্রক্রিয়াকরণের সময় কয়েক সপ্তাহ সময় নিতে পারে।

ভিসা ফি:

  • ভিসা ফির পরিমাণ আপনার আবেদন করার সময় আপনার নাগরিকত্বের উপর নির্ভর করে।

ভিসার বৈধতা:

  • একটি সার্বিয়ান ভিসা সাধারণত এক বছরের জন্য বৈধ থাকে।
  • এটি এক বছরের জন্য নবায়ন করা যেতে পারে।

সার্বিয়া ভিসা চেক অনলাইন

আপনি নিম্নলিখিত উপায়ে আপনার সার্বিয়া ভিসা অনলাইনে চেক করতে পারেন:

১. ই-কনস্যুলেট পোর্টাল:

  • “Visa Status Check” ট্যাবে ক্লিক করুন।
  • আপনার ভিসা আবেদন নম্বর এবং জন্ম তারিখ প্রবেশ করুন।
  • “Check” বোতামে ক্লিক করুন।

২. সার্বিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয় মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট:

  • “Consular Affairs” ট্যাবে ক্লিক করুন।
  • “Visa Status Check” বিকল্পটি নির্বাচন করুন।
  • আপনার ভিসা আবেদন নম্বর এবং জন্ম তারিখ প্রবেশ করুন।
  • “Check” বোতামে ক্লিক করুন।

৩. ইমেইল:

  • আপনি mailto: ঠিকানায় ইমেইল পাঠিয়ে আপনার ভিসার স্ট্যাটাস জিজ্ঞাসা করতে পারেন।
  • আপনার ইমেইলে আপনার ভিসা আবেদন নম্বর, জন্ম তারিখ এবং সম্পূর্ণ নাম অন্তর্ভুক্ত করতে ভুলবেন না।

ভিসা চেক করার সময় আপনার নিম্নলিখিত তথ্যগুলি প্রয়োজন হবে:

  • আপনার ভিসা আবেদন নম্বর
  • আপনার জন্ম তারিখ
  • আপনার পূর্ণ নাম

কিছু দরকারী টিপস:

  • আপনার ভিসার স্ট্যাটাস সম্পর্কে আপডেট পেতে আপনি নিয়মিত ই-কনস্যুলেট পোর্টাল বা সার্বিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয় মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট পরীক্ষা করতে পারেন।
  • আপনার ভিসা সম্পর্কে আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে, আপনি সার্বিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয় মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট পেতে কত দিন লাগে

সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট পেতে কত দিন লাগবে তা নির্ভর করে বিভিন্ন বিষয়ের উপর। সাধারণত, প্রক্রিয়াটিতে 2 থেকে 6 মাস সময় লাগে।

কিছু বিষয় যা সময়সীমা প্রভাবিত করতে পারে:

  • আপনার আবেদনের ধরন: কর্মী, ম্যানেজার, স্ব-নিযুক্ত, ইত্যাদি।
  • আপনার আবেদনের সাথে জমা দেওয়া নথিপত্রের সম্পূর্ণতা এবং সঠিকতা।
  • আপনার আবেদন যে কর্তৃপক্ষটি প্রক্রিয়া করছে তার কর্মক্ষমতা।

বাংলাদেশ থেকে সার্বিয়া যেতে কত টাকা লাগে

বাংলাদেশ থেকে সার্বিয়া ভ্রমণের খরচ বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে, যেমন:

  • আপনি কখন ভ্রমণ করছেন: ভ্রমণের মরসুমের সময় (যেমন গ্রীষ্মকালে) টিকিট এবং আবাসনের খরচ বেশি হতে পারে।
  • আপনি কীভাবে ভ্রমণ করছেন: বিমান ভ্রমণ ট্রেন বা বাসের চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল হবে।
  • আপনার থাকার ব্যবস্থা: হোটেলে থাকা হোস্টেলে থাকার চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল হবে।
  • আপনার খাওয়ার অভ্যাস: আপনি যদি রেস্তোরাঁয় খান তবে আপনি স্ট্রিট ফুড খাওয়ার চেয়ে বেশি খরচ করবেন।

সাধারণভাবে, বাংলাদেশ থেকে সার্বিয়া ভ্রমণের জন্য আপনার প্রতি সপ্তাহে প্রায় 1,000 থেকে 2,000 মার্কিন ডলার খরচ হবে।

এখানে কিছু নির্দিষ্ট খরচের বিভাজন দেওয়া হল:

  • বিমান ভাড়া: ঢাকা থেকে বেলগ্রেডের রাউন্ড-ট্রিপ বিমান ভাড়া 600 থেকে 1,200 মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে।
  • আবাসন: হোটেলে একটি রাতের থাকার জন্য খরচ 50 থেকে 200 মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে। হোস্টেলে একটি রাতের থাকার জন্য খরচ 10 থেকে 30 মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে।
  • খাবার: একটি রেস্তোরাঁয় একটি খাবারের জন্য খরচ 10 থেকে 20 মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে। একটি স্ট্রিট ফুড স্টল থেকে একটি খাবারের জন্য খরচ 2 থেকে 5 মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে।
  • পরিবহন: বাস বা ট্রেনে যাতায়াতের জন্য খরচ প্রতি দিন 5 থেকে 10 মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে।

আপনার ভ্রমণের খরচ কমাতে আপনি এখানে কিছু টিপস পেয়েছেন:

  • মরসুমের বাইরে ভ্রমণ করুন: ভ্রমণের মরসুমের বাইরে টিকিট এবং আবাসনের খরচ কম হবে।
  • বাজেট এয়ারলাইন্সে উড়ুন: বাজেট এয়ারলাইন্সে উড়ে আপনি বিমান ভাড়া বাঁচাতে পারেন।
  • হোস্টেলে বা গেস্টহাউসে থাকুন: হোটেলের চেয়ে হোস্টেল এবং গেস্টহাউসে থাকা অনেক সস্তা।
  • স্থানীয় খাবার খান: স্থানীয় খাবার খাওয়া রেস্তোরাঁয় খাওয়ার চেয়ে অনেক সস্তা।
  • পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করুন: পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করা ট্যাক্সি বা ভাড়া করা গাড়ির চেয়ে অনেক সস্তা।

আপনার ভ্রমণের জন্য বাজেট তৈরি করার সময়, আপনার ভ্রমণের সমস্ত সম্ভাব্য খরচ বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

পরিশেষে

আমি আশা করছি আপনারা আপনাদের সার্বিয়া ওয়ার্ক পারমিট দেখতে কেমন এই প্রশ্নের উওর পেয়েছেন। আরো কিছু জানার থাকলে নিচে কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

আরো পড়ুনঃ কোন দেশে টাকার মান বেশি

Visited 155 times, 1 visit(s) today

Leave a Comment

x